বিশ্বের দীর্ঘতম উপকূলরেখা বিশিষ্ট ১০টি দেশের তালিকা।
বিশ্বের দীর্ঘতম উপকূলরেখা ও শীর্ষ ১০টি দেশের বিস্তারিত পরিচয়।
"আপনি কি জানেন বিশ্বের দীর্ঘতম উপকূলরেখা কোন দেশের? কানাডা, ইন্দোনেশিয়া ও নরওয়ে সহ পৃথিবীর শীর্ষ ১০টি দীর্ঘতম উপকূলীয় দেশের তালিকা ও বিস্তারিত তথ্য জানুন এই নিবন্ধে।"
পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই পানি দ্বারা আবৃত, আর এই বিশাল জলরাশির সাথে স্থলভাগের যেখানে মিলন ঘটে, তাকেই আমরা বলি উপকূলরেখা। কিছু দেশের ভৌগোলিক গঠন এবং হাজার হাজার দ্বীপের উপস্থিতির কারণে তাদের উপকূলরেখা অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ। নিচে বিশ্বের দীর্ঘতম উপকূলরেখা থাকা ১০টি দেশের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো:
১. কানাডা (Canada) :
বিশ্বের দীর্ঘতম উপকূলরেখার মুকুটটি এককভাবে কানাডার। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০২,০৮০ কিলোমিটার। আটলান্টিক, প্রশান্ত এবং উত্তর মহাসাগর—এই তিন বিশাল জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত কানাডার উপকূলরেখা এতই দীর্ঘ যে, একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ১০ কিলোমিটার করে হাঁটেন, তবে পুরোটা শেষ করতে তার সময় লাগবে প্রায় ৫৫ বছর।
২. নরওয়ে (Norway) :
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা নরওয়ের উপকূলরেখা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এর বিশেষত্ব হলো অসংখ্য 'fjord' (পাহাড়ের মাঝখানে সরু জলের পথ) এবং প্রায় ২,৪০,০০০টি ক্ষুদ্র দ্বীপ। এই খাঁজকাটা গঠনের কারণেই দেশটির উপকূলরেখা প্রায় ১,০১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
৩. ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) :
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ইন্দোনেশিয়ার উপকূলরেখা প্রায় ৯৯,০৮৩ কিলোমিটার। ১৭,০০০-এর বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। এর সমুদ্রসৈকত এবং প্রবাল প্রাচীর পর্যটন ও অর্থনীতির প্রধান উৎস।
৪. গ্রিনল্যান্ড (Greenland) :
ভৌগোলিকভাবে এটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত হলেও রাজনৈতিকভাবে ডেনমার্কের অংশ। এর উপকূলরেখা প্রায় ৪৪,০৮৭ কিলোমিটার। আর্কটিক এবং আটলান্টিক মহাসাগরের হিমশীতল পানি এর চারপাশ ঘিরে রেখেছে।
৫. রাশিয়া (Russia) :
আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়ার উপকূলরেখা প্রায় ৩৭,৬৫৩ কিলোমিটার। এর উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর এবং পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত। রাশিয়ার উপকূলরেখার একটি বড় অংশ বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে।
৬. ফিলিপাইন (Philippines) :
ইন্দোনেশিয়ার মতো ফিলিপাইনও একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যা প্রায় ৭,৬০০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬,২৮৯ কিলোমিটার। স্বচ্ছ নীল জলরাশি এবং সাদা বালুর সৈকতের জন্য এই দেশটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
৭. জাপান (Japan) :
পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি চারটি প্রধান দ্বীপ এবং প্রায় ৬,০০০টি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর উপকূলরেখা প্রায় ২৯,৭৫১ কিলোমিটার। জাপানের অর্থনীতি ও সংস্কৃতি ঐতিহাসিকভাবেই সমুদ্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
৮. অস্ট্রেলিয়া (Australia) :
অস্ট্রেলিয়াকে বলা হয় 'দ্বীপ মহাদেশ'। এর চারপাশেই সমুদ্র। মূল ভূখণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলো মিলিয়ে এর উপকূলরেখা প্রায় ২৫,৭৬০ কিলোমিটার। বিখ্যাত 'গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ' এই উপকূলেরই একটি অংশ।
৯. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরেখা প্রায় ১৯,৯২৪ কিলোমিটার। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর ছাড়াও আলাস্কার বিশাল উপকূল এবং মেক্সিকো উপসাগর এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
১০. অ্যান্টার্কটিকা (Antarctica) :
জনমানবহীন এই বরফের মহাদেশের উপকূলরেখা প্রায় ১৭,৯৬৮ কিলোমিটার। যদিও এটি কোনো দেশ নয়, তবে ভৌগোলিক হিসেবে এটি তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। এর উপকূলরেখা মূলত বিশাল সব বরফের স্তূপ বা আইসশেলফ দিয়ে গঠিত।
একটি মজার তথ্য (The Coastline Paradox):
উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা বেশ জটিল। আপনি যত ক্ষুদ্র স্কেলে বা সূক্ষ্মভাবে এটি পরিমাপ করবেন, দৈর্ঘ্য তত বেশি হবে। কারণ ক্ষুদ্র খাঁজ এবং বাঁকগুলো তখন গণনায় চলে আসে। একেই বলা হয় 'কোস্টলাইন প্যারাডক্স'।
.webp)