ঢাকার সিগনালে ডিজিটাল AI ক্যামেরা, সিগনাল না মানলে মামলা।
![]() |
| AI ক্যামেরায় গাড়ি সনাক্ত করার নমুনা ছবি। |
ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রাথমিক ভাবে চালু করা হয়েছে AI প্রজুক্তির আধুনিক ডিজিটাল সিগনাল ক্যামেরা। এখন থেকে কেউ সিগনাল অমান্য করলেই এসব ক্যামেরায় সয়ংক্রিয় ভাবে গাড়ি সনাক্ত করে মামলা ও জরিমানা করবে।
ঢাকার রাস্তায় গভীর রাতে ফাঁকা রাস্তায় লালবাতি জ্বলাকালীন সিগনাল অমান্য করে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া, এটা ঢাকায় যারা গাড়ি চালায় তাদের কাছে সাধারন বিষয়। কিন্তু এখন থেকে এটার আর করার সুজোগ থাকছে না। লালবাতি জ্বলা কালীন সিগনাল অমান্য করলেই গুনতে হবে মোটা অংকের জরিমানা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (DMP) উদ্যোগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে AI এর আধুনিক প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। শাহবাগ, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটরসহ অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল এই প্রজুক্তির মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। ধীরে ধীরে আরও এলাকায় এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।
উন্নত দেশগুলোতে AI এর এই প্রজুক্তি চালু থাকলেও বাংলাদেশে এই প্রথম। আগে বাংলাদেশে ট্রাফিক আইন অমান্য করলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের মামলার আওতায় আনতেন।
কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশের (DMP) উদ্যোগে AI এর এই ডিজিটাল ক্যামেরা চালু হবার ফলে, এখন থেকে কোন পুলিশ আর গাড়ি থামিয়ে মামলা দিতে হবে না। সিগনাল অমান্য হলে AI এর ডিজিটাল ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নাম্বার সনাক্ত করে জরিমানা করবে, এবং সেই জরিমানার SMS অল্প সময়ের মধ্যে চলে যাবে গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে।
AI ক্যামেরা যেসব অপরাধ শনাক্ত করবে?
AI ক্যামেরাগুলো শুধু সিগন্যাল ভাঙাই নয়, আরও বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করতে সক্ষম।
এর মধ্যে রয়েছে—
* লাল বাতি অমান্য করা।
* জেব্রা ক্রসিং ব্লক করা।
* উল্টো পথে গাড়ি চালানো।
* হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো।
* অতিরিক্ত যাত্রী বহন।
* সিটবেল্ট না পরা।
* গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা
* অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহার
সহজ কথায়, ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দেওয়া এখন অনেক কঠিন। কারণ এই প্রযুক্তির কোনো আবেগ নেই।—এটি শুধু নিয়ম দেখে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।
কত হতে পারে জরিমানার পরিমাণ?
Road Transport Act 2018 অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের জন্য আলাদা জরিমানার বিধান রয়েছে। যেমন—
* ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা।
* বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
* হর্ন বা অন্যান্য ট্রাফিক আইন ভাঙলেও নির্ধারিত জরিমানা।
* ফলে ছোট একটি অসতর্কতাও এখন বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নতুন কিছু বিষয় যা অনেকেই জানেন না।
রাজধানীতে এখন স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যালও চালু করা হতে পারে, যা গাড়ির চাপ অনুযায়ী সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় থাকবে “পুশ-বাটন পেডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং”, যেখানে পথচারীরা বোতাম চাপ দিয়ে রাস্তা পারাপারের সংকেত চালু করতে পারেবেন।
এই নিয়মগুলো অমান্য করলেও AI ক্যামেরা তা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনে মামলা দিতে পারবে। যদিও এগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন।
গাড়ির মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের গাড়ি অন্যকে চালালে, তা নজরে রাখা। কারণ মামলা হবে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী, অর্থাৎ দায়ভার গিয়ে পড়বে মালিকের ওপর।
এছাড়া BSP Portal-এ গাড়ির সাথে যুক্ত মোবাইল নম্বর সক্রিয় ও আপডেট আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ জরিমানার নোটিশ বা মামলার তথ্য ওই নম্বরেই পাঠানো হবে।
সময়মতো জরিমানা পরিশোধ বা মামলা নিষ্পত্তি না করলে ভবিষ্যতে ওয়ারেন্ট পর্যন্ত জারি হতে পারে। তখন আদালত, কোর্ট-কাচারি ও অতিরিক্ত ঝামেলায় পড়তে হতে পারে গাড়ির মালিককে।
প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই AI ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে যেমন আইন ভাঙার প্রবণতা কমবে, তেমনি সড়কে শৃঙ্খলাও বাড়বে। একই সঙ্গে দুর্নীতি বা অনৈতিকভাবে “ম্যানেজ” করার সুযোগও কমে আসবে।
তাই এখন থেকে রাস্তায় চলার সময় শুধু পুলিশ দেখলেই সতর্ক হলেই হবে না—সতর্ক থাকতে হবে প্রতিটি মোড়ে থাকা ক্যামেরার দিকেও। কারণ নতুন এই বাস্তবতায় আইন ভাঙলেই “অটোমেটিক মামলা” এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তবতা।
| আরো পড়ুন |
|---|
| শিশুদের মেধা বিকাশে অভিভাবকদের করণীয় |
| গরমের দিনে যেসব ফল থাকা চাই আপনার খাদ্যতালিকায় |
| প্রতিদিন একটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে যেসব উপকার পাবেন |
.webp)