PROTIDINBD

ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চুক্তি ।

 

​বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্যান্ডেমিক এগ্রিমেন্ট সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত চিত্র

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।


মহামারি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)'র চুক্তি, আলোচনা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। 


বিশ্বজুড়ে করোনার মতো ভয়াবহ মহামারি ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে এবং বৈষম্যহীনভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক চুক্তিতে পৌঁছাতে কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। 

এরই ধারাবাহিকতায়, 'প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং' (PABS) নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যানেক্স বা চুক্তির অংশ নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে সদস্য দেশগুলো। গত ১ মে ২০২৬ তারিখে জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


​**প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং (PABS) কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, PABS হলো এমন একটি আইনি কাঠামো যার মাধ্যমে বিশ্বের সব দেশ মহামারি ঘটাতে সক্ষম এমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার (প্যাথোজেন) তথ্য দ্রুত একে অপরের সাথে শেয়ার করবে। এর বিনিময়ে ওই প্যাথোজেন ব্যবহার করে যেসব টিকা, ওষুধ বা ডায়াগনস্টিক কিট তৈরি হবে, তার সুফল যেন দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো ন্যায্যমূল্যে এবং দ্রুততম সময়ে পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেখা গিয়েছিল যে, ধনী দেশগুলো দ্রুত টিকা পেলেও গরিব দেশগুলো অনেক পেছনে পড়ে ছিল। ভবিষ্যতে যেন এমন বৈষম্য না হয়, সেটিই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।


​**জেনেভা সম্মেলনের অগ্রগতি:

​জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তঃসরকারি ওয়ার্কিং গ্রুপের (IGWG) ষষ্ঠ সভায় সদস্য দেশগুলো প্যান্ডেমিক এগ্রিমেন্ট বা মহামারি চুক্তির এই কারিগরি অংশটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে। সভায় অনেক অগ্রগতি হলেও কিছু জটিল আইনি ও বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মূলত টিকা ও ওষুধের পেটেন্ট বা মালিকানা এবং তা কীভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে সহজে পৌঁছানো যায়, তা নিয়ে আরও সূক্ষ্ম আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিনিধিরা।


​বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে যে, এই কাজের ফলাফল চলতি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠাতব্য ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (WHA) উপস্থাপন করা হবে। যেহেতু আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তাই ওয়ার্কিং গ্রুপকে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হতে পারে। তবে জরুরি প্রয়োজনে ২০২৬ সালের মধ্যেই বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


​**ডব্লিউএইচও প্রধানের হুঁশিয়ারি:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "পরবর্তী মহামারি কখন আসবে তা আমরা জানি না, তবে এটি আসবেই—এটি এখন আর 'যদি' নয়, বরং 'কখন' তার বিষয়। তাই আমাদের হাতে সময় খুব কম।" তিনি আরও যোগ করেন যে, PABS অ্যানেক্স হলো এই চুক্তির শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা কোভিড-১৯ থেকে শেখা শিক্ষাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।


**পরবর্তী পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

আইজিডব্লিউজি (IGWG) ব্যুরোর কো-চেয়ার এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত তোভার দা সিলভা নুনেস জানিয়েছেন যে, একটি প্রযুক্তিগত এবং আইনত জটিল নথি চূড়ান্ত করতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ এবং নিবেদনের প্রয়োজন হয়। সদস্য দেশগুলো সেই সদিচ্ছা দেখিয়েছে। আগামী ৬ থেকে ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই গ্রুপের সপ্তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


​২০২৫ সালের মে মাসে সদস্য দেশগুলো যখন এই মহামারি চুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছিল, তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে একটি আশা তৈরি হয়েছিল যে, ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সংকটে বিশ্ব একজোট হয়ে লড়াই করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে শুধু তথ্যের আদান-প্রদান নয়, বরং একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সহযোগিতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


* ​উপসংহার:

ভবিষ্যতের মহামারি প্রস্তুতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই উদ্যোগটি মানব সভ্যতার সুরক্ষার জন্য একটি মাইলফলক। যদিও আলোচনাটি সময়সাপেক্ষ হচ্ছে, তবে একটি টেকসই ও ইনসাফভিত্তিক স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলার জন্য দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অত্যন্ত ইতিবাচক।

সূত্র : (WHO)