মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন ।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত



 সৌদি আরবের নিরাপত্তায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সেনারা ইতোমধ্যে দেশটিতে দায়িত্ব পালন করছে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।


পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনারা বিভিন্ন সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।


সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে তিন দেশ সম্মত হওয়ার কয়েক দিন পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হলো।


৫ অক্টোবর রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির কঠোর বিরোধিতা করে তিন দেশ।


সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হামলায় দেশটির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি গ্রহণ করা হয়।


‘পাকিস্তানি সেনারা ইতোমধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে’


সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে।


তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনারা কয়েক দশক ধরেই সৌদি আরবে বিভিন্ন সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছে।’


মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের আওতায় নতুন করে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পাকিস্তানের সামরিক সদস্যরা সৌদি আরবে আগে থেকেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।


সৌদি আরবকে সহায়তা নিয়ে তুরস্কের আলোচনা


এদিকে মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা নিয়ে তুরস্ক কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।


তিনি জানান, সৌদি আরবকে বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফিদান মক্কা চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আক্রমণাত্মক চুক্তি হিসেবে নয়।


চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।


দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা


সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি সেনাদের প্রশিক্ষণ ও সামরিক পরামর্শসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকটের বিভিন্ন সময়ে সৌদি আরবও পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।


গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ পৃথক একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিও সই করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে প্রায় ৮ হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল।


পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের বর্তমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও জনগণ পর্যায়ের সম্পর্ক রয়েছে।


এদিকে তুরস্কও সৌদি আরবকে হুথিদের হামলা মোকাবিলায় মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।


সূত্র: আরব নিউজ (Arab News), রয়টার্স