ইয়েমেনে সৌদি জোট-হুতি সংঘাতে নিহত ১,৫৭৪, আহত প্রায় ৭ হাজার

ইয়েমেনে সৌদি জোট ও হুতি সংঘাতে হতাহত মানুষের প্রতীকী ছবি
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতীকী ছবি।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। গত আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৫৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৯৩৯ জন।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।


# আট দিনে নিহত ২৯২, আহত ১ হাজার ৪৮

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েমেনে সংঘাতের ঘটনায় মোট ৮ হাজার ৫১৩ জন হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭৪ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৯৩৯ জন আহত হয়েছেন।


সংস্থাটির পরিসংখ্যান বলছে, সর্বশেষ আট দিনে সংঘাতের ঘটনায় ২৯২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪৮ জন আহত হয়েছেন। এর আগে প্রকাশিত হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৮২ এবং আহতের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৮৯১।


তবে হতাহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন যোদ্ধা বা সামরিক বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।


# ২০১৪ সাল থেকে সংঘাত

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা-সহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে।


এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ, সামরিক অভিযান ও পাল্টাপাল্টি হামলায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও মানবিক পরিস্থিতির ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।


# দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণ

বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুতি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, বন্দরনগরী এডেনসহ দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা।


দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেশটির চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মানবিক সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।


সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আনাদোলু