ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ১০ জন

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাসেবার প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাসেবার প্রতীকী ছবি 

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১০ জন।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)।


মৃত্যু ও আক্রান্তের সর্বশেষ হিসাব


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ছয়জনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৯ জনে। এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯০৯ জন।


একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৯৪ জন।


কোন বিভাগে কতজন হাসপাতালে ভর্তি?


গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৯৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের হিসাব হলো—


* ময়মনসিংহ বিভাগে ৬০ জন


* চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৫ জন


* খুলনা বিভাগে ২৩৫ জন


* রাজশাহী বিভাগে ২১৯ জন


* রংপুর বিভাগে ৬৫ জন


* বরিশাল বিভাগে ২১৯ জন


* সিলেট বিভাগে ২৪ জন


এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা জরুরি


ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টায়ার কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে।


এ ছাড়া দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা ডেঙ্গুর সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জনসচেতনতা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।


সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য, ৩ নভেম্বর ২০২৬।