সৌদিতে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল

 

Saudi Arabia intercepts Houthi ballistic missile as Riyadh King Khalid International Airport extends suspension of operations
ছবি: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতীকী ছবি

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি পর্যবেক্ষণ করছে আরব জোট। নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।


সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী আরব জোট।


জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার বিষয়টি জানান। এদিকে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের আভা এলাকায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানানো হয়।


আরব জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে আসা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


রিয়াদ বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধি


নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষ করতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।


গত শনিবারের প্রাণঘাতী হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪-এ একটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানলে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হন।


আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার কাজ চলছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ দিনের মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরে এটি ছিল চতুর্থ হামলার ঘটনা। এ ছাড়া বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে জোটের বাহিনী।


সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হামলার ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি গেটের সামনে বহু ধর্মীয় যাত্রী সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় উজ্জ্বল কমলা রঙের আলোর ঝলক দেখা গেলে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। ভিডিওতে ছাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।


দাম্মাম বিমানবন্দর ও আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি


শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তারা দাবি করেছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল।


সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় দাম্মাম বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ঘটনার পর সেখানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরিদর্শন শুরু করা হয়।


সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা বেড়েছে। আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত ও আভা ছাড়াও ইয়েমেন সীমান্তবর্তী জিজান ও নাজরান এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এসব ঘটনায় সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।


উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা


আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সংঘাত কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে রোববার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।


আলোচনায় আরাঘচি জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে তেহরান সহায়তা করতে প্রস্তুত।


রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাহরাইন, যুক্তরাজ্য, জর্ডান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।


সূত্র: Arab News