![]() |
| প্রতীকী ছবি |
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুর এবং রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি কী?
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের এই দাবির মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ, কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
কারখানার উৎপাদনে প্রভাব
বিক্ষোভের কারণে গাজীপুর ও আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা সাময়িক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগের দিন প্রায় ৭০০টি কারখানা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে বিদেশি ক্রয়াদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই শিল্প থেকে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শুধু শ্রমিক ও মালিকদের নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকার ও মালিকপক্ষের অবস্থান
শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য সরকার ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও বিক্ষোভ পুরোপুরি থামেনি। অন্যদিকে কারখানার মালিকেরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার চাপের কথা তুলে ধরেছেন।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা—দুই বিষয়েই কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না এলে রপ্তানি আদেশ, কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স,
