ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কেশম দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ

 

ইরানের কেশম দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপকূলীয় এলাকায় ধোঁয়া উড়ছে।
ছবি: সংগৃহীত


সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আনাদোলু, ইরনা ও ফার্স।

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।


তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে হামলায় ঠিক কোন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।


এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা


হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে হামলা ও বিস্ফোরণের খবর সামনে এলো। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। তাদের কয়েকজন এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।


মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরি করা কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখাই এসব অভিযানের উদ্দেশ্য।


ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই হামলার খবর


এমন এক সময়ে নতুন হামলার খবর এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।


সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হয়েছিল এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়েছে। তবে কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই না চলায় এটিকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।


কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত


সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।


তিনি আরও জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।


এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।


পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।


সর্বশেষ বিস্ফোরণ ও হামলার খবরের পর নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু, ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।