হাসিনার দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমানের মাত্র ১৫০ টাকা!

শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ নিয়ে চিফ হুইপের বক্তব্য
ছবি: শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের খাবারের খরচ নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির বক্তব্য। সংগৃহীত।


দুপুরের খাবারে হাসিনার কার্যালয়ে সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়: চিফ হুইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ProtidinBD

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাপ্তরিক কার্যালয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পেছনে সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনে সাবেক র সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। বিপরীতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় গিয়ে সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।


তারেক রহমানের খাবারের তালিকায় ডাল, ডিম ও কুমড়ার ভর্তা

মতবিনিময় সভায় নূরুল ইসলাম মণি বলেন, শেখ হাসিনার দাপ্তরিক কার্যালয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পেছনে সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো বলে তাঁর দাবি। এ হিসাবে বছরে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাধারণ জীবনযাপনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সে সময় খাবারের তালিকায় ছিল ডাল, ডিম ভাজি ও কুমড়ার ভর্তা।

চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের একটি পয়সাও তাঁর হাত দিয়ে নষ্ট হতে দেবেন না। তাঁর জীবনযাপন ও সাধারণ খাবারের ধরনকে এ বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আহ্বান জানান নূরুল ইসলাম মণি।


চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্যদের কর্মীবান্ধব হতে হবে এবং দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁদের পাশে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

নূরুল ইসলাম মণি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বহিষ্কারের প্রসঙ্গেও কথা বলেন চিফ হুইপ। তাঁর মতে, শুধু দল থেকে বহিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; এ ধরনের ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, নির্বাচনে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে জানান তিনি।

তাঁর মতে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, এমন জনপ্রিয় ব্যক্তিরাও যাতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হওয়ার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। 


জিয়াউর রহমানের শাসনামল ও অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্য

বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নূরুল ইসলাম মণি। তিনি দাবি করেন, সে সময় দেশে খাদ্যসংকট ছিল এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর তিন বছরের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি সেনেগালেও খাদ্য ও চাল রপ্তানি করেছিল।

এ ছাড়া গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, দেশের কঠিন সময়ে বিএনপির ওপর দায়িত্ব এসে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নিয়ে গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: বিডি২৪লাইভে প্রকাশিত প্রতিবেদন।